সুন্দরবনে পৃথক দু’টি অভিযানে দুর্ধর্ষ ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা ২ জেলেকে উদ্ধার এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কুখ্যাত ডাকাত দয়াল বাহিনীর এক সদস্যকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। আটক ডাকাতদলের সদস্যের নাম তরিকুল (৩৫)। সে কয়রা থানার বাসিন্দা। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলের সকল বনদস্যুর বিরুদ্ধে কোস্টগার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দু’টি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর অংশ হিসেবে সুন্দরবনের বিভিন্নস্থানে পৃথক দু’টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে দুর্ধর্ষ ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা একটি মাছ ধরার নৌকাসহ ২ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কুখ্যাত দয়াল বাহিনীর একজন সদস্যকে আটক করা হয়।
কোস্টগার্ড জানায়, গত ১৫ এপ্রিল মোংলা থানাধীন জয়মনিঘোল এলাকার শুয়োরমারা খাল সংলগ্ন স্থানে মাছ ধরতে গিয়ে ২ জন জেলে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে অপহৃত হয়। ডাকাতরা তাদের জিম্মি রেখে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে নির্যাতন চালায়।
পরবর্তীতে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে ১৬ এপ্রিল বিকেল ৪টায় কোস্টগার্ড বেইস মোংলা কর্তৃক মুর্তি খাল সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ১টি কাঠের নৌকাসহ ২ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এসময় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা জিম্মিদের ফেলে বনের ভেতরে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পাশাপাশি, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, কুখ্যাত ডাকাত দয়াল বাহিনী শ্যামনগর থানাধীন হোগলডরা খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টায় কোস্টগার্ড স্টেশন কৈখালী উক্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ২টি একনলা বন্দুক, ৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ কুখ্যাত ডাকাত দয়াল বাহিনীর সদস্য তরিকুলকে আটক করা হয়। সে দীর্ঘদিন যাবৎ দয়াল বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে ডাকাতি করে আসছিল।
আটককৃত ডাকাত, জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

